‘সাধনার কোনো শেষ নেই’ এই চেতনায়, নতুন উদ্যমে প্রতিদিনের পথ চলা।

মিস্ নাওমি মাসুনো, রিস্সো কোসেই-কাই লস অ্যাঞ্জেলেস।

মিস্ নাওমি মাসুনো

কখন এবং কীভাবে আপনি প্রথম রিস্সো কোসেই-কাই-এর ধর্মবিশ্বাসের সংস্পর্শে এলেন?

আমি ওসাকায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং সেখানেই বড় হয়েছি। ১৯৮০ সালে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর যে পরিবারে আমি এসেছিলাম, সেটি ছিল রিস্সো কোসেই-কাই-এর ওসাকা ধর্মকেন্দ্রের একজন সদস্যের পরিবার। এভাবেই এই ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। আমার স্বামী এবং তাঁর বাবা-মা সকলেই ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান সদস্য। তাই আমাদের বাড়িতে দিন-রাত স্থানীয় সদস্য ও যুব বিভাগের নেতৃবৃন্দের আসা-যাওয়া লেগেই থাকত।

বিয়ের পরের বছর, ১৯৮১ সালে, আমাদের জ্যেষ্ঠ পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে জাপানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সময়ে আমার স্বামী উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় প্রতিরাতেই বাড়ির বাইরে থাকতেন অথবা ভোররাতে বাড়ি ফিরতেন। ফলে ধীরে ধীরে আমাদের দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। পরিবারের প্রতি স্বামীর উদাসীনতা দেখে একসময় আমার মনে হতে লাগল—“এভাবে আর একসঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। সম্ভব হলে আমি বিবাহবিচ্ছেদ করতে চাই…” শেষ পর্যন্ত কিছু সময়ের জন্য আমি আমার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিই।

আমার এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে এলাকার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ প্রায়ই আমার খোঁজখবর নিতেন এবং আমাকে আন্তরিকভাবে সহায়তা করতেন। প্রথমদিকে আমি তাঁদের এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সময় বাড়িতে থেকেও এমন ভান করতাম যেন আমি বাড়িতে নেই। কিন্তু আমার সহধর্মবিশ্বাসী সঙ্গীরা বারবার আমার বাসায় এসে আমার খোঁজ নিতে থাকেন। তাঁদের সেই আন্তরিকতা, মমতা ও সহানুভূতি ধীরে ধীরে আমার হৃদয়কে স্পর্শ করে। এরপর আমি আমার ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে অল্প অল্প করে ওসাকা ধর্মকেন্দ্রে যেতে শুরু করি।

ধর্মকেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ আন্তরিকভাবে আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন—“ইদানীং কেমন আছেন? কোনো কিছু কি আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে?” “কিছু ঘটলে আমাদের বলতে কোনো দ্বিধা করবেন না।” তাঁরা শুধু আমার খোঁজখবরই নিতেন না, আমার ছোট ছেলেটিরও যত্ন নিতেন এবং তাকে দেখাশোনা করতে আমাকে সহযোগিতা করতেন। তাঁদের এই আন্তরিক সহায়তা ও উষ্ণতার জন্যই আমি ধীরে ধীরে প্রয়াত স্বজনের স্মরণ-অনুষ্ঠানে এবং ধর্মকেন্দ্রের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সাধনায় অংশ নিতে শুরু করি।

আপনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে সঙ্ঘের সদস্যরা আপনাকে আন্তরিকভাবে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছিলেন, তাই তো?

এরপরও আমি আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকি। বেশ কয়েকবার বিবাহবিচ্ছেদের কাগজপত্র নিয়ে গেলেও, প্রতিবারই তিনি সেগুলো ছিঁড়ে ফেলতেন। আমি দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছিলাম এবং কী করব, তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই আমাদের দাম্পত্য জীবনের সমস্যা নিয়ে তৎকালীন শাখা-প্রধানের কাছে মন খুলে কথা বললাম। তিনি আমাকে দৃঢ় অথচ মমতাপূর্ণ কণ্ঠে বললেন, “আপনার স্বামীর সঙ্গে যে সমস্যার মধ্য দিয়ে আপনি যাচ্ছেন, সেটিও আপনার জন্য প্রয়োজনীয় একটি সাধনা। বিবাহবিচ্ছেদ করা হয়তো সহজ, কিন্তু আপনার নিজের মনের পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের কষ্টের সম্মুখীন হতে পারেন। বিবাহবিচ্ছেদ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে বুদ্ধের ওপর ছেড়ে দিন। আপাতত শুধু একাগ্রচিত্তে ধর্মানুশীলন করে চলুন।” আমি তাঁর কথায় বিশ্বাস স্থাপন করলাম। এরপর আন্তরিকভাবে সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ধর্মের কথা বলা এবং হোজা বা ধর্মবৈঠকের সাধনা করতে করতে নিজের মনের গভীরে ও সততার সঙ্গে তাকাতে শুরু করলাম। এর কিছুদিন পর আশ্চর্যজনক একটি ঘটনা ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে যিনি জেদ করে বিবাহবিচ্ছেদে রাজি হচ্ছিলেন না, সেই আমার স্বামী হঠাৎ সহজেই বিবাহবিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করে দিলেন। আমরা এই শর্তে সম্মত হলাম যে, আমাদের ছেলের একক অভিভাবকত্ব আমার কাছে থাকবে এবং কোনো ভরণপোষণ বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে না। অবশেষে ১৯৯১ সালে আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় এবং আমরা দুজনেই জীবনের নতুন অধ্যায়ের পথে এগিয়ে যাই।

এরপর একা হাতে আমার ছেলেকে বড় করতে গিয়ে আর্থিক সংকটসহ আরও অনেক কঠিন ও বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। একজন মা হিসেবে নিজের সন্তানকে রক্ষা করে বড় করে তোলার দৃঢ় সংকল্প ও শক্তি আমার মধ্যে ছিল। তবুও এমন অনেক সময় এসেছে, যখন মনে হয়েছে আমি হয়তো আর সামলাতে পারব না, ভেঙে পড়ব। যখনই এমন পরিস্থিতি এসেছে, সঙ্ঘের সদস্যরা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং আন্তরিকভাবে আমার পাশে থেকেছেন। এত মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা ছিল বলেই, ছেলেকে মানুষ করার পাশাপাশি আমি দিনের বেলা একটি জীবনবীমা কোম্পানিতে কাজ করতে পেরেছি এবং সন্ধ্যায় শাখার যুব মহিলা বিভাগের প্রধান হিসেবে সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সাধনা চালিয়ে যেতে পেরেছি। এছাড়াও ওমে প্রশিক্ষণ শিবির এবং শিচিমেন পর্বতে তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছি এবং আন্তরিকভাবে যুব বিভাগের কার্যক্রমে নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরেছি। আজ পেছন ফিরে তাকালে, আমার হৃদয় গভীর কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠেছে এবং আজ সে একজন সরল, আন্তরিক ও মমতাপূর্ণ হৃদয়ের অধিকারী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠেছে—এর জন্য আমি অন্তর থেকে কৃতজ্ঞ।

এরপর আপনি কীভাবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে এলেন, সে সম্পর্কে আমাদের বলবেন?

১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, বিবাহবিচ্ছেদের পরের বছর, আমি স্কুলজীবনের এক বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে আমেরিকার লাস ভেগাসে গিয়েছিলাম। সেখানেই যেন ভাগ্যের নির্দেশে, এমন এক সময়ে আমার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

সেই সময় তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করতেন এবং লাস ভেগাসে পর্যটকদের গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমরা তাঁকে বলেছিলাম যে জাপান থেকে বেড়াতে লাস ভেগাসে এসেছি। তখন তিনি আমাদের তাঁর প্রায়ই যাওয়া একটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে গেলেন। প্রথম দেখাতেই আমাদের বেশ ভালোভাবে কথা জমে গেল। আমরা আনন্দের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খেলাম এবং তারপর বিদায় নিলাম।

কিন্তু তার মাত্র তিন দিন পর আবার তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। সেই মুহূর্তে ঘটনাটি আমার কাছে কোনো সিনেমা বা উপন্যাসের কাহিনির মতো মনে হয়েছিল। এতটাই আশ্চর্যজনক সেই কাকতালীয় সাক্ষাৎ ছিল যে, আমার মনে গভীর এক নিয়তির টান অনুভূত হয়েছিল। সেদিনও আমরা একসঙ্গে খাবার খেলাম। বিদায় নেওয়ার সময় আমি তাঁকে আমার ফোন নম্বর দিয়ে বললাম, “কখনো যদি ওসাকায় আসার সুযোগ হয়, তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।” এরপর আমার বন্ধু এবং আমি পরের দিন জাপানে ফিরে এলাম।

প্রায় ছয় মাস পর সত্যিই তিনি কাজের সূত্রে ওসাকায় এলেন। তখন তাঁর সঙ্গে আমার এক আবেগঘন পুনর্মিলন হলো। এভাবেই একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা আমাদের জীবনের গো-এন—এক বিশেষ নিয়তির বন্ধনে পরিণত হলো। আমাদের দুজনেরই আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল এবং তখন আমরা দুজনেই অবিবাহিত ছিলাম। পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর, ১৯৯৩ সালের নভেম্বর মাসে আমরা পুনর্বিবাহ করি।

তিনি যখন আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন আমি আমার মনের কথা অকপটে তাঁকে জানিয়েছিলাম—“বিয়ের পরেও আমি রিস্সো কোসেই-কাই-এর ধর্মবিশ্বাস ও সাধনা চালিয়ে যাব। আর আমার কাছে যে ছেলে অমূল্য, সেও আমার সঙ্গে থাকবে।”

তিনি একসময় টোকিওর সুগিনামি এলাকায় বসবাস করেছিলেন। তাই রিস্সো কোসেই-কাই-এর মূলমন্দির সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল। এছাড়া তাঁর বাবা-মা দুজনেই ইতিমধ্যে প্রয়াত হয়েছিলেন। তাই আমেরিকাতেও পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের জন্য ধর্মীয় সাধনা করা সম্ভব হবে—এই বিষয়টিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে তিনি আমার রিস্সো কোসেই-কাই-এর ধর্মবিশ্বাস ও সাধনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকে আন্তরিকভাবে সম্মান করেছিলেন। অবশ্য আমার ছেলেকেও তিনি সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। অবশেষে ১৯৯৪ সালের মে মাসে, তখন জুনিয়র হাই স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আমার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাই।

পরিবারের সাথে: স্বামী (উপরে বামে), ছেলে (নিচে বামে), নাতনি (উপরে ডানে)

লস অ্যাঞ্জেলেস ধর্মকেন্দ্রে আপনি জাপানি-ভাষী শাখার শাখা-প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন, তাই তো?

২০০৩ সাল থেকে আমি শুনিন ও মহিলা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার সুযোগ পেয়েছি। এরপর ২০০৭ সাল থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে জাপানি-ভাষী শাখার শাখা-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি যখন প্রথম আমেরিকায় আসি, তখন এখানকার ভিন্ন সংস্কৃতি ও রীতিনীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্ত হয়েছি। এমনকি রিস্সো কোসেই-কাই-এর সাধনার ক্ষেত্রেও জাপান ও আমেরিকার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য অনুভব করেছি। জাপানে সাধারণত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই, উদাহরণস্বরূপ, কোনো নেতার কাছ থেকে নির্দেশনা পেলে অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই বলেন, “জি, বুঝতে পেরেছি” অথবা “হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন।” অন্যদিকে, আমেরিকায় সাধারণভাবে মানুষ নিজের মতামত ও ইচ্ছাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে অভ্যস্ত। যেমন, তাঁরা বলেন, “আমি এভাবে মনে করি” অথবা “আমি বিষয়টিকে এভাবে দেখি।”তবে এর কোনোটিই

ভালো বা খারাপ—এভাবে বিচার করার বিষয় নয়। বরং আমেরিকান সদস্যদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি যে, প্রতিটি দেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও মানুষের স্বভাবের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা পরস্পরের পক্ষ থেকে স্বীকার করা, সম্মান করা এবং বোঝার চেষ্টা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে আমি যে পাম স্প্রিংস এলাকায় থাকি, সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস ধর্মকেন্দ্র প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। গাড়িতে যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। তরুণ বয়সে আমি একদিনেই গিয়ে ধর্মকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করে আবার বাড়ি ফিরে আসতাম। কিন্তু বর্তমানে ধর্মকেন্দ্রে রাত্রিযাপন করে প্রতি মাসের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করি।

গাড়িতে করে ধর্মকেন্দ্রে যাওয়ার পথে, আমি ধর্মকেন্দ্র থেকে দূরে বসবাসকারী এবং কোলে শিশু বা ছোট সন্তান থাকা সদস্যদেরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে তাঁরাও সাচ্ছন্দে ধর্মীয় কাজে অংশ নিতে পারেন। এভাবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আমি যেমন নিজের বিশ্বাস ও সাধনাকে আরও গভীর করার চেষ্টা করেছি, তেমনি অতীতে সঙ্ঘের সদস্যরা যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতাকেও মনে রেখেছি। তাই অন্য মানুষের কষ্ট ও দুঃখের সময় তাঁদের পাশে থাকা এবং আন্তরিকভাবে তাঁদের সঙ্গে পথ চলার বিষয়টিকে আমি সবসময় গুরুত্ব দিয়েছি। এইভাবেই বছরের পর বছর ধরে বহু সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁদের পাশে থাকার সুযোগ পেয়েছি।

১৯৯৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস ধর্মকেন্দ্রের সদস্যদের সঙ্গে অ্যারিজোনা কেন্দ্রে পবিত্র বুদ্ধমূর্তি প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। (সামনের সারিতে ডানদিকে মিস্ মাসুনো।

রিস্সো কোসেই-কাই-এর এমন কোনো বিশেষ শিক্ষা আছে কি, যা আপনি সবসময় হৃদয়ে ধারণ করে চলেন?

“আমি নিজে পরিবর্তিত হলে, অন্য ব্যক্তিও পরিবর্তিত হন”—এই শিক্ষাটি আমি গভীরভাবে হৃদয়ে ধারণ করি। বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বিয়ের শুরুর দিকে, অনেক সময় অজান্তেই তাঁর সঙ্গে এমনভাবে কথা বলে ফেলতাম, যেন আমি তাঁকে ওপর থেকে উপদেশ দিচ্ছি। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমি তো তোমার কাছে শিখতে বলিনি।” তাঁর সেই কথায় আমি নিজের অহংকার ও আত্মম্ভরিতার দিকটি উপলব্ধি করতে পারি। আবারও গভীরভাবে অনুভব করি যে, আমার মধ্যে কতটা প্রবল ‘আমিত্ব’-ভাব রয়েছে। একই সঙ্গে, এই অভিজ্ঞতা আমাকে জীবনে যে সমস্ত মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয় এবং যে সমস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলোর প্রতিটি বিষয় থেকে শিক্ষা নিয়ে, নিজেকে পরিবর্তন করে, ক্রমাগত বিকশিত করার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে।

এই বছরের জুন মাসে আপনি জাপানি-ভাষী শাখার শাখা-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অবসর নিয়েছেন। এখন থেকে কী মনোভাব নিয়ে সাধনায় এগিয়ে যেতে চান, সে সম্পর্কে আমাদের বলবেন?

সম্মানিত প্রেসিডেন্ট আমাদের সবসময় শিক্ষা দিয়ে আসছেন—“সাধনা, সাধনা; মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাধনা। আর পুনর্জন্ম হলেও আবার সাধনা।”

কোনো দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও বুদ্ধের পথে আমাদের সাধনা তো শেষ হয়ে যায় না। তাই আমিও ভবিষ্যতে সদস্যদের প্রতিজ্ঞায় উল্লিখিত ‘ব্যক্তিত্বের সাধন’ এর লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে সাধনা করে যেতে চাই। আমি যাঁদের গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন লস অ্যাঞ্জেলেস ধর্মকেন্দ্রের সাবেক পরামর্শদাতা প্রয়াত গ্রিমিৎসু মহোদয়া। বয়সের কারণে শাখা-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি তাঁর সমবয়সী সদস্যদের নিজের গাড়িতে করে সঙ্গে নিয়ে যেতেন এবং প্রতি মাসের গো-মেইনিচি উপলক্ষে অবশ্যই ধর্মকেন্দ্রে প্রার্থনা ও উপাসনায় অংশ নিতেন।

ভবিষ্যতেও আমি গ্রিমিৎসু মহোদয়াকে একজন আদর্শ বিশ্বাসী হিসেবে হৃদয়ে ধারণ করে চলতে চাই। “সাধনার কোনো শেষ নেই”—এই কথাটি মনে ধারণ করে, এখন থেকে একজন অনুসারী হিসেবে নতুন উদ্যম ও নতুন মন নিয়ে বুদ্ধের পথে সাধনা করে যেতে চাই।

২০২৬ সালের ২৯ মার্চ রবিবারের প্রার্থনা অনুষ্ঠানে রিস্সো কোসেই-কাই আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক রেভারেন্ড মায়েদাকে (সামনের সারির মাঝখানে) ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেস ধর্মকেন্দ্রের সদস্যরা। সামনের সারিতে বাঁ দিক থেকে চতুর্থজন হলেন মিস্ মাসুনো।