সাক্ষাত থেকে শিক্ষা, সাক্ষাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা

২৮ জুলাই সংঘটিত ৭.১ মাত্রার কুমামোতো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়, ইয়াতসুশিরো ধর্মকেন্দ্রের সদস্যরা এবং প্রধান কার্যালয় থেকে প্রেরিত সহায়তা দল ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন। তাঁরা দুর্গত মানুষের কাছে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া, ধ্বংসাবশেষ অপসারণসহ বিভিন্ন সহায়তামূলক কাজে আন্তরিকভাবে নিয়োজিত ছিলেন।

সবাইকে নমস্কার।

এই মাসে সম্মানিত প্রেসিডেন্টের ধর্মোপদেশের শিরোনাম হলো—“আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে আমি আনন্দিত।” আমরা যদি আমাদের পরিবার, বন্ধু, কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী এবং সমাজের মানুষের সঙ্গে সবসময় এই অনুভূতি নিয়ে আচরণ করতে পারতাম, তাহলে আমাদের প্রতিদিনের জীবন কতই না উষ্ণ, আনন্দময় ও সুন্দর হয়ে উঠত!

আমাদের প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় শিক্ষা দিয়েছেন, “জীবন মানেই মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ।” অন্য মানুষের সঙ্গে আমাদের একের পর এক সাক্ষাতের মধ্য দিয়েই আমাদের জীবন গড়ে ওঠে। আর আমি বিশ্বাস করি, সেই প্রতিটি সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেরাও ধীরে ধীরে পরিশুদ্ধ ও পরিণত হয়ে উঠি।

আমরা প্রতিদিন অজান্তেই মানুষ ও পরিস্থিতিকে “পছন্দ–অপছন্দ” কিংবা “সঠিক–ভুল”-এর মতো মানদণ্ডে বিচার করে থাকি। কিন্তু যখন আমরা মনে করতে শুরু করি যে “শুধু আমার নিজের চিন্তাভাবনাই সঠিক,” তখন বৌদ্ধধর্মে যাকে “আসক্তি” বলা হয়, সেই মনোভাব আমাদের মধ্যে জন্ম নেয়। এর ফলে, নিজের থেকে ভিন্ন মূল্যবোধের মানুষদের আমরা অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করতে পারি। কিন্তু যাঁদের মূল্যবোধ আমাদের থেকে আলাদা, কিংবা যাঁদের সঙ্গে মেলামেশা করতে আমাদের কঠিন মনে হয়—তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎও কি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ “শেখার সুযোগ” নয়?

সম্মানিত প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ভিন্ন মতের মানুষের চিন্তাভাবনাকে তিনি এভাবে গ্রহণ করেছেন—“আচ্ছা, এমনভাবেও তো ভাবা যায়।” তাঁর এই মনোভাব থেকে আমি শিখেছি, মানুষের সঙ্গে প্রতিটি সাক্ষাৎকে যেমন আছে, তেমনভাবেই গ্রহণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সদ্ধর্ম পুণ্ডরীক সূত্রে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, বুদ্ধ মানুষকে পথ দেখানোর জন্য “তেত্রিশটি রূপে” আবির্ভূত হন। এর অর্থ এই হতে পারে যে, আমাদের সামনে আসা প্রতিটি মানুষ এবং প্রতিটি সাক্ষাৎই আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনের সংকীর্ণতা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এক মূল্যবান সুযোগ।

তাই এই মাসেও, “আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে আমি আনন্দিত”—এই কৃতজ্ঞতার মন নিয়ে জীবনের প্রতিটি সাক্ষাৎকে সযত্নে গ্রহণ করতে চাই এবং প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান করে প্রতিদিনের পথচলা অব্যাহত রাখতে চাই।