অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্বকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে,করুণাপূর্ণ হৃদয়ে এগিয়ে চলা
প্রিয়রঞ্জন বড়ুয়া, রিস্সো কোসেই-কাই বাংলাদেশ।

আপনি কখন এবং কীভাবে রিস্সো কোসেই-কাই-এর সঙ্গে যুক্ত হলেন?
আমি থেরবাদ বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি এবং বেড়ে উঠেছি। তদুপরি, আমার দুই দাদু থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের খ্যাতিমান ভিক্ষু ছিলেন। এমন একটি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম বিশ্বাস গড়ে উঠেছিল। পড়াশোনা শেষ করার পর আমি বাংলাদেশের একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমার নিজ শহর চট্টগ্রামে কর্মজীবন শুরু করি। কিন্তু কিছুদিন পর আমাকে চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে সিলেটে বদলি করা হয়। সিলেট একটি ইসলামি সংস্কৃতির জন্য সমৃদ্ধ শহর। সেখানে কোনো বৌদ্ধ মন্দির ছিল না। অল্পসংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করতো। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরে যাওয়া এবং বুদ্ধের শিক্ষা শোনার বা জানার সুযোগ আমারও ধীরে ধীরে কমে গেল।
এরপর ২০০০ সালে একদিন আমার বন্ধু বিপ্লব বড়ুয়া এবং আত্মীয় অসীম বড়ুয়ার সঙ্গে আমার দেখা হয়। তাঁদের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারি যে চট্টগ্রামে রিস্সো কোসেই-কাই নামে একটি গৃহী বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগঠন রয়েছে। তাঁরা আমাকে তৎকালীন যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রধান বিমান কুমার বড়ুয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁরা দুজনের আন্তরিক ও উষ্ণ অনুপ্রেরণায় আমি কর্মস্থল সিলেট থেকে বহু দূরে চট্টগ্রামে বারবার আসতে শুরু করি। প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রার্থনাসভা ও হোজায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে থাকি।
থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম এবং রিস্সো কোসেই-কাই—উভয়েই বুদ্ধের শিক্ষার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তবে সাধনা ও ধর্মচর্চার পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে। থেরবাদ বৌদ্ধধর্মে সাধারণত ভিক্ষুরা পালি ভাষায় সূত্রপাঠ ও আবৃত্তি করেন এবং ধর্মদেশনা প্রদান করেন। অন্যদিকে, গৃহী বৌদ্ধ অনুসারীদের ধর্মচর্চা অনেক সময় প্রার্থনা, সূত্রপাঠ, দান ইত্যাদি আনুষ্ঠানিক আচারকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। এ ছাড়া অনেক সাধারণ ধর্মানুরাগী পালি ভাষা বুঝতে না পারার কারণে বুদ্ধের গভীর শিক্ষা সরাসরি হৃদয়ে ধারণ করা বা দৈনন্দিন জীবনে তা প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু রিস্সো কোসেই-কাই-এর সদস্যরা নিজেদের মাতৃভাষা বাংলায় একসঙ্গে পুণ্ডরীক সূত্র পাঠ করেন। তাঁরা বুদ্ধের শিক্ষা নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং একে অপরের কাছ থেকে শিখতে থাকেন। এই বিষয়টি আমার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।
যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছিল তা হলো—রিস্সো কোসেই-কাই-এর সদস্যগণ গৃহী বৌদ্ধ হিসেবে নিজেদের পরিবার ও কর্মজীবনের দায়িত্বকে যথাযথভাবে পালন করার পাশাপাশি, মানুষের সুখ ও সমাজের কল্যাণে বুদ্ধের শিক্ষা অন্যদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন এবং বোধিসত্ত্ব জীবনচর্চা করছেন। এই নতুন ও গভীরভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা আমার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছিল। আমার মনে প্রবলভাবে একটি আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠল— “আমিও এই পথেই এগিয়ে যেতে চাই।” সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই পরবর্তীতে আমি রিস্সো কোসেই-কাই-এর সদস্য হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি।
তাহলে, ঐ দুই ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎই কি আপনার বিশ্বাসজীবনের একটি বড় মোড় হয়ে উঠেছিল?
হ্যাঁ, ঠিক তাই। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের ফলেই আমি রিস্সো কোসেই-কাই এবং সদ্ধর্ম পুণ্ডরীক সূত্রের শিক্ষার সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলাম। আর সেই শিক্ষাকে প্রতিদিনের জীবনে অনুশীলন করার মাধ্যমে আমি বহু পুণ্যফল, আশীর্বাদ ও অন্তরের শক্তি লাভ করেছি।
প্রকৃতপক্ষে, আমি বিশ্বাস করি, ঐ দুই ব্যক্তির সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ছিল আমার জীবনের এক অমূল্য শুভ-বন্ধন, যা আমার সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
আমি যখন রিস্সো কোসেই-কাই-এর ধর্মকেন্দ্রে যাওয়া শুরু করি, তখন রেভারেন্ড ইজাওয়া কাজুমাসা (ওইতা ধর্মকেন্দ্রের প্রাক্তন বাঞ্চপ্রধান) মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাত হয়। যিনি বহু বছর ধরে বাংলাদেশে সদ্ধর্ম পুণ্ডরীক সূত্রের শিক্ষার বীজ বপন করে আসছিলেন—জাপান থেকে ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। তাঁর কাছ থেকে তখন আমি অনেক মূল্যবান ও গভীর ধর্মীয় আলোচনা শোনার সুযোগ পাই। বিশেষ করে, রিস্সো কোসেই-কাই-এর সদস্যরা কীভাবে অন্য মানুষের সুখ ও কল্যাণের জন্য প্রতিদিন বোধিসত্ত্বের জীবন অনুশীলন করেন, তাঁর এই বক্তব্য আমার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই সময় আমি সিলেটে কর্মরত ছিলাম। কিন্তু রিস্সো কোসেই-কাই-এর শিক্ষা ও ধর্মচর্চার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে প্রতি শুক্রবার সিলেট থেকে চট্টগ্রামে আসতে শুরু করি। দূরত্ব ছিল অনেক, পথও সহজ ছিল না। তবুও সেই দূরত্ব আমার সংকল্পকে থামাতে পারেনি। চট্টগ্রামে এসে আমি সংঘের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রে বন্দনা ও হোজায় অংশগ্রহণ করতাম।

এরপর আমার মনে একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়—সিলেটে থাকা আরও অনেক মানুষের কাছে রিস্সো কোসেই-কাই-এর এই চমৎকার ও কল্যাণময় শিক্ষা পৌঁছে দিতে হবে। এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমি বন্ধু ও পরিচিতদের আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করি এবং তাঁদের নিয়ে বন্দনা ও হোজার আয়োজন করি। এভাবে ধীরে ধীরে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাই।
সবার সহযোগিতা ও আশীর্বাদে শেষ পর্যন্ত ২৫টি পরিবারকে রিস্সো কোসেই-কাই-এর ধর্মপথের সঙ্গে যুক্ত করার (মিচিবিকি করা) সৌভাগ্য লাভ করি।
সদ্ধর্ম পুণ্ডরীক সূত্রের শিক্ষা অধ্যয়ন করে কোন বিষয়টি আপনার হৃদয়ে সবচেয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছে?
সদ্ধর্ম পুণ্ডরীক সূত্রে মঞ্জশ্রী, মৈত্রেয়, সদাপরিভূত বোধিসত্ত্ব প্রমুখ অসংখ্য বোধিসত্ত্বের উল্লেখ রয়েছে। এই বোধিসত্ত্বদের প্রত্যেকেই অসাধারণ গুণাবলি ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী। তাঁদের প্রত্যেককেই আমাদের জীবনের আদর্শ দৃষ্টান্ত বলে মনে করি। বিশেষভাবে করুণার প্রতীক অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্বের প্রতি আমি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়েছি। তাঁকে আমি জীবনের একটি মহৎ আদর্শ ও লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। সদ্ধর্ম পুণ্ডরীক সূত্রের ২৫তম অধ্যায়—‘অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্বের দ্বার সর্বদিকে’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে—অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্ব তেত্রিশটি রূপ ধারণ করে ধর্ম প্রচার করেন।” এর অর্থ হলো, অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্ব মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে তাদের উদ্ধার করার জন্য পরিস্থিতি ও মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রূপ ধারণ করেন এবং মুক্তি ও কল্যাণের পথ দেখান। আমিও অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্বের করুণাময় হৃদয়কে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে, অন্যের দুঃখে সাড়া দেওয়া এবং মানুষের সুখ ও কল্যাণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষ্য নিয়ে, করুণাপূর্ণ হৃদয়ে বোধিসত্ত্বের সাধনায় নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই।
রিস্সো কোসেই-কাই-এর কোন শিক্ষাটি আপনি বিশেষভাবে হৃদয়ে ধারণ করেন?
“অন্যকে আগে স্থান দেওয়া”—এই কথাটি আমার খুব প্রিয়। আমি প্রতিদিনের জীবনে এই নীতিকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। কারণ, “অন্যকে আগে স্থান দেওয়া”ই পুণ্ডরীক সূত্রের শিক্ষার সারমর্ম; এটি বোধিসত্ত্ব জীবন চর্চার মূল ভিত্তি বলে মনে করি। রিস্সো কোসেই-কাই-এ শিক্ষা দেওয়া হয়, ‘বোধিসত্ত্ব হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নিজে জ্ঞানলাভের সাধনার পাশাপাশি, অন্যের সুখ ও কল্যাণের জন্য কাজ করেন। কিন্তু আমাদের চারপাশের বাস্তব সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক মানুষই আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাপন করেন। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। ঠিক এই কারণেই আমি মনে করি, “অন্যকে আগে স্থান দেওয়া”কে জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করা এবং অন্যের সুখ ও কল্যাণের কথা মনে রেখে কাজ করার মধ্যেই আমাদের জীবনের প্রকৃত আনন্দ, সার্থকতা ও বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।
“অন্যকে আগে স্থান দেওয়া”—এই কথাটি আমার খুব প্রিয়। আমি প্রতিদিনের জীবনে এই নীতিকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। কারণ, “অন্যকে আগে স্থান দেওয়া”ই পুণ্ডরীক সূত্রের শিক্ষার সারমর্ম; এটি বোধিসত্ত্ব জীবন চর্চার মূল ভিত্তি বলে মনে করি। রিস্সো কোসেই-কাই-এ শিক্ষা দেওয়া হয়, ‘বোধিসত্ত্ব হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নিজে জ্ঞানলাভের সাধনার পাশাপাশি, অন্যের সুখ ও কল্যাণের জন্য কাজ করেন। কিন্তু আমাদের চারপাশের বাস্তব সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক মানুষই আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাপন করেন। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। ঠিক এই কারণেই আমি মনে করি, “অন্যকে আগে স্থান দেওয়া”কে জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করা এবং অন্যের সুখ ও কল্যাণের কথা মনে রেখে কাজ করার মধ্যেই আমাদের জীবনের প্রকৃত আনন্দ, সার্থকতা ও বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।
রিস্সো কোসেই-কাই-এর কোন দিকগুলো আপনার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়?
রিস্সো কোসেই-কাই-এর বিভিন্ন অনুশীলনের মধ্যে পূর্বপুরুষ বন্দনা, হোজা (ধর্মবৈঠক) এবং “একবেলা আহার উৎসর্গ” এসব কর্মকাণ্ড আমার কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় মনে হয়। এর কারণ হলো, পূর্বপুরুষ বন্দনার মাধ্যমে আমি বুদ্ধ এবং আমার পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুযোগ পাই। হোজার মাধ্যমে সংঘের সদস্যদের সঙ্গে ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতে, পরস্পরের কাছ থেকে শিখতে এবং নিজেদের জীবন-অভিজ্ঞতা ও ধর্মচর্চার মাধ্যমে অর্জিত পুণ্যফল একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি। এ ছাড়া, “একবেলা আহার উৎসর্গ” কার্যক্রমটিও আমার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে মাসে কয়েকবার স্বেচ্ছায় একবেলা আহার ত্যাগ করে ক্ষুধার অনুভূতি উপলব্ধি করা, একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও নানা সংকটে দূর্দশাগ্রস্থ মানুষের মঙ্গল ও সুখের জন্য প্রার্থনা করা এবং তাঁদের সহায়তায় দান করা হয়। আমি বিশ্বাস করি, এটি বৌদ্ধধর্মের “সহানুভূতি, প্রার্থনা ও দান”-এর চেতনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বোধিসত্ত্ব আচরণের একটি বাস্তব অনুশীলন। একই সঙ্গে, এটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও শান্তির চেতনা জাগিয়ে তোলার একটি অত্যন্ত অর্থবহ সমসাময়িক শান্তি কার্যক্রম বলেও আমি মনে করি।
পরিশেষে, অনুগ্রহ করে আপনার ভবিষ্যৎ ধর্মানুশীলনের লক্ষ্য ও জীবনের স্বপ্ন সম্পর্কে কিছু বলুন।
আমরা প্রতিদিন যে সদস্যদের প্রতিজ্ঞা পাঠ করি, তাতে আমাদের ধর্মানুশীলনের উদ্দেশ্য ও আদর্শ স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে—“ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন করা” এবং “পরিবার, সমাজ, দেশ তথা সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং চিরশান্তির বুদ্ধভূমি বিনির্মাণের জন্য বোধিসত্ত্ব সাধনায় আত্মনিয়োগ করা।” অতএব, ভবিষ্যতেও আমি এই সদস্যদের প্রতিজ্ঞাকে জীবনের পথনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিদিন ধর্মানুশীলন ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাধনা চালিয়ে যেতে চাই। নিজের ব্যক্তিত্বকে আরও পরিশীলিত করার পাশাপাশি, অন্যের সুখ ও কল্যাণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করাই হবে আমার সাধনার মূল লক্ষ্য। আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলতে গেলে, আর তিন বছর পর আমি অবসর গ্রহণ করব। আমি এই অবসর-পরবর্তী জীবনকে জীবনের সমাপ্তি হিসেবে নয়, বরং দ্বিতীয় জীবনের একটি নতুন সূচনা হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। সেই নতুন জীবনে অন্যের সুখ ও কল্যাণের জন্য ধর্মপ্রচার এবং বোধিসত্ত্ব জীবন অনুশীলনে নিজেকে আন্তরিকভাবে উৎসর্গ করতে চাই।
আমার একান্ত কামনা, জীবনের এই দ্বিতীয় অধ্যায়টি যেন আরও অর্থবহ, পরিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং অন্যের সুখে নিজের সুখ খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে একটি সার্থক জীবন যাপন করতে পারি।
সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
