সদ্ধর্ম পুণ্ডরীক সূত্র ও চতুরার্যসত্যের শিক্ষা —দুঃখ সমুদয় আর্যসত্যের অনুশীলন
ডঃ ডমিনিক স্কারাঞ্জেলো
উপদেষ্ঠা, রিস্সো কোসেই-কাই আন্তর্জাতিক বিভাগ।
আগের পর্বে আমরা আলোচনা করেছি, কীভাবে মাইন্ডফুলনেস—অর্থাৎ “এই মুহূর্তে, এখানে” নিজের চেতনাকে স্থির রাখা—এবং বডিফুলনেস—অর্থাৎ সমগ্র শরীরের প্রতি সচেতন থাকা—এর মাধ্যমে দুঃখ সত্যের অনুশীলন করা যায়। আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যে যখন ব্যবধান তৈরি হয় এবং সেই কারণে মনে দুঃখের উদয় হয়, তখন সেই মুহূর্তটিকে সচেতনভাবে উপলব্ধি করা—এটাই ছিল সেই অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আমরা যদি নিজেদের দুঃখকে সততার সঙ্গে স্বীকার করতে পারি এবং মেনে নিতে পারি যে, “আমার একটি সমস্যা রয়েছে,” তাহলে বলা যায়, আমরা ইতিমধ্যেই প্রথম বড় বাধাটি অতিক্রম করেছি। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকা যায় না। বুদ্ধ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন—দুঃখ থেকে মুক্ত হতে চাইলে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। আর সেই ধাপ হলো দুঃখের উৎপত্তির কারণ অনুসন্ধান করা। এটিই দুঃখ সমুদয় সত্য।
বৌদ্ধধর্মে কখনো বলা হয়, মানুষের তৃষ্ণা বা প্রবল আকাঙ্ক্ষা দুঃখের মূল কারণ। আবার কখনো বলা হয়, বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে আমাদের অবিদ্যা বা অজ্ঞতাই দুঃখের কারণ। কিন্তু এই দুটি পরস্পরবিরোধী নয়। “অবিদ্যা” বলতে শুধু কোনো বিষয় না-জানাকে বোঝায় না। এর মধ্যে রয়েছে নিজেকে ভুলভাবে উপলব্ধি করা—অর্থাৎ, মনের গভীরে প্রোথিত আত্মকেন্দ্রিকতা। এই আত্মকেন্দ্রিকতা কেবল একটি চিন্তার ধরন নয়; বরং আমরা যেভাবে পৃথিবীকে দেখি ও উপলব্ধি করি, তার মধ্যেই এটি গভীরভাবে প্রোথিত থাকে। আর এই আত্মকেন্দ্রিকতা থেকেই জন্ম নেয়— “বাস্তবতাকে আমার ইচ্ছামতো হতে হবে”—এই প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও আসক্তি।
তারপর আমরা বাস্তবতাকে নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার জন্য নানা কাজ করতে থাকি। আর তার ফলেই কখনো নিজের, কখনো আশপাশের মানুষের, আবার কখনো উভয়েরই দুঃখের কারণ হয়ে উঠি।
এখানে আমার তরুণ বয়সের একটি ঘটনা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। আমি যখন বিশের কোঠায়, তখন একবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাজে যাওয়ার জন্য গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথে ভয়াবহ যানজটে আটকে পড়লাম। যত সময় যেতে লাগল, আমার বিরক্তি তত বাড়তে লাগল। একসময় আশপাশের প্রতিটি গাড়িকেই আমার গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে বাধা বলে মনে হতে লাগল। ঠিক তখনই পাশের একটি গাড়ি আমার সামনে ঢুকে পড়ল। আমি মুহূর্তের মধ্যে রেগে গেলাম, হর্ন বাজালাম এবং সেই চালকের দিকে চিৎকার করে উঠলাম। সামনের চালকও চিৎকার করে জবাব দিলেন। ফলে, একটি সাধারণ যানজট—যা হয়তো কিছু সময় পর স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়ে যেত—আমার কাছে যেন নরকের মতো এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো।

তখন নিজেকে প্রশ্ন করলাম—“আমি কেন এমন আচরণ করলাম?” আমি যদি সেই চালকের প্রতি রাগ না দেখাতাম, চিৎকার না করতাম, তাহলে হয়তো সেই ঝগড়াটিই হতো না। এই অর্থে, সেই সংঘাতের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল আমার নিজের আচরণ।
কিন্তু এখানেই অনুসন্ধান থামিয়ে দিলে চলবে না। আমাকে আরও গভীরে গিয়ে জানতে হবে— “আমি কেন এমন আচরণ করলাম?” কারণ এই “কেন”-এর প্রকৃত কারণটি যদি আমি বুঝতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতিতে আমার রাগ আবার বিস্ফোরিত হতে পারে এবং আমি একই ধরনের পরিণতি ডেকে আনতে পারি।
সেই সময় আমার মনের অবস্থা যেন ছিল একটি
শক্ত করে পেঁচিয়ে রাখা স্প্রিংয়ের মতো।ভেতরে ভেতরে নেতিবাচক শক্তি জমা হচ্ছিল, আর সামান্য একটি ঘটনাই যেন সেই শক্তিকে এক মুহূর্তে বিস্ফোরিত করে দিল। তাহলে প্রশ্ন হলো—আমার ভেতরে এত তীব্র নেতিবাচক শক্তি জমে ছিল কেন?
এর কারণ কি শুধু সেই সময়কার পরিস্থিতি—অর্থাৎ, গুরুত্বপূর্ণ কাজে পৌঁছাতে আমার দেরি হয়ে যাচ্ছিল? অনেকেই হয়তো তাই ভাববেন। কিন্তু একই যানজটে আটকে থাকা অন্য চালকদের মধ্যে নিশ্চয়ই এমন মানুষও ছিলেন, যাঁরা একইভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাচ্ছিলেন, অথচ শান্ত ও স্থির ছিলেন। তাহলে শুধু বাহ্যিক পরিস্থিতি বা পরিবেশই আমার রাগের প্রধান কারণ হতে পারে না। আমাদের আরও গভীরে অনুসন্ধান করতে হবে।
দশস্বরূপতা সম্পর্কে অধ্যয়ন করার সময় আমরা বুঝেছি যে, একজন মানুষ কী ধরনের কাজ করতে পারেন বা কোনো পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রবণতা তাঁর মধ্যে রয়েছে—তার সঙ্গে তাঁর মনের প্রকৃতি গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাহলে সেই মুহূর্তে আমার মনের অবস্থা কেমন ছিল?
আমি গুরুত্বপূর্ণ কাজে দেরি হয়ে যাওয়ার বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারছিলাম না। আমার মন ক্রোধে জ্বলছিল। আমি এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, যা আমার নিজের শক্তি বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। অর্থাৎ, আমাকে নিজের অসহায়ত্ব ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

এই দিক থেকে দেখলে বলা যায়, আমার দ্রুত রেগে যাওয়ার প্রবণতাই সেই ঘটনার একটি কারণ ছিল। কিন্তু এখানেও অনুসন্ধান শেষ হয় না। আমাদের আরও একটি স্তর গভীরে যেতে হবে। আমাদের বর্তমান মানসিক অবস্থা অনেকাংশেই আমাদের অতীত অভিজ্ঞতার দ্বারা গঠিত হয়।
আমাদের মনের “স্বতন্ত্র প্রকৃতি”-এর মধ্যে অতীতের কর্ম ও অভিজ্ঞতার প্রভাব বর্তমান পর্যন্ত এসে প্রতিফলিত হয়। অর্থাৎ, অতীতের অভিজ্ঞতা যে ফল বা প্রভাব রেখে গেছে—“স্বতন্ত্র পরিনাম”—তা আমাদের মনের প্রকৃতি গঠনে ভূমিকা রাখে। তাই আমার নিজের ক্ষেত্রেও আমাকে ফিরে তাকিয়ে দেখতে হয়েছে—“আমি কি সত্যিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার প্রবণতা নিয়ে বড় হয়েছি? আর যদি তাই হয়ে থাকে, তবে তার পেছনে কারণ কী?”
ছোটবেলায় আমি প্রায়ই দেরি করতাম। বাড়ির কাজ বা বিদ্যালয়ের হোমওয়ার্কও অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে পারতাম না। এর জন্য বড়দের কাছ থেকে আমাকে কঠোরভাবে বকাঝকা শুনতে হতো। বাড়ি ও স্কুল—উভয় জায়গাতেই সময়মতো কাজ করা এবং সময় মেনে চলার জন্য আমার ওপর অনেক চাপ ছিল। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল—প্রায় এক ধরনের মানসিক আঘাতের মতো। তাই বিশের কোঠায় যখন আমি যানজটে আটকে
পড়েছিলাম, তখন হয়তো আমার ভেতরে একটি প্রবল আকাঙ্ক্ষা কাজ করছিল—“ছোটবেলায় সময়ের কারণে যে কষ্ট আমাকে সহ্য করতে হয়েছিল, তা যেন আর কখনো ফিরে না আসে।”
এই আকাঙ্ক্ষা নিজে কোনো খারাপ বিষয় ছিল না। বরং এর মধ্যে ছিল নিজেকে রক্ষা করতে চাওয়ার একটি স্বাভাবিক ও কোমল অনুভূতি। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার সেই আকাঙ্ক্ষা ভয় ও ক্রোধের মতো অনুকূল নয় এমন আবেগে বিকৃত হয়ে গেল। আর সেই আবেগই আমাকে বাস্তবতাকে নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার জন্য উত্তেজিত আচরণের দিকে ঠেলে দিল।
এভাবেই আমরা বুঝতে পারি যে, দুঃখ সমুদয় সত্যের অনুশীলন সবসময় সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন সময় নিয়ে সততার সঙ্গে নিজের অন্তরের দিকে তাকানো। নিজের অনুভূতি, চিন্তা, রাগ, ভয়, আকাঙ্ক্ষা ও আসক্তিকে অস্বীকার না করে সেগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে সংঘের সহযাত্রীদের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা খোলাখুলি ভাগ করে নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ কখনো কখনো অন্যের দৃষ্টিতে নিজের মনকে দেখলে আমরা এমন কিছু উপলব্ধি করতে পারি, যা একা নিজের পক্ষে দেখা কঠিন।
দুঃখকে সত্যিকার অর্থে অতিক্রম করতে হলে শুধু দুঃখকে অনুভব করছি—এখানেই থেমে গেলে চলবে না। আমাদের জানতে হবে—“এই দুঃখের পেছনে কী রয়েছে?” “আমি কেন এমনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখালাম?” “আমার মনের গভীরে কোন আকাঙ্ক্ষা, ভয় বা আসক্তি কাজ করছে?” অর্থাৎ, সমস্যার বাহ্যিক কারণের পেছনে না থেমে, ধীরে ধীরে তার মূল কারণের কাছে পৌঁছাতে হবে। এটাই দুঃখ সমুদয় সত্যের অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
পরবর্তী পর্বে আমরা এই একই উদাহরণকে আবার সামনে রেখে আলোচনা করব—দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য “দুঃখ নিরোধের পথ” বা “মার্গ সত্য” কীভাবে অনুশীলন করা যায়। সেই অনুশীলনের পথ আমরা কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুঁজে নিতে পারি—আসুন, পরবর্তী পর্বে আমরা সবাই মিলে তা নিয়ে ভাবি।
সংঘের কার্যক্রমের প্রতিবেদন

রেভারেন্ড মারিয়া সাসাকি, মিনিষ্টার রিস্সো কোসেই-কাই ব্রাজিল
আমার এক ছেলে আছে, যে এখন কৈশোরে পা দিয়েছে। কিছুদিন আগে একদিন আমার খুব তাড়া ছিল। তাই আমি ছেলেকে বাড়ির একটি কাজে সাহায্য করতে বললাম। আমি বললাম, “বাবা, দয়া করে কাজটা এখনই একটু করে দাও।” কিন্তু তখন সে একটি ভিডিও গেমে গভীরভাবে মগ্ন ছিল।
সে বিরক্ত হয়ে বলল, “উফ্, আমি এখন তো এটা ছেড়ে উঠতে পারব না!” তার কথায় আমিও বিরক্ত হয়ে গেলাম। বলে ফেললাম, “সারাক্ষণ শুধু গেম খেলেই চলেছ!” এরপর কথায় কথায় আমাদের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে গেল।
পরে শান্ত হয়ে যখন ঘটনাটি ফিরে দেখলাম, তখন নিজেকে প্রশ্ন করলাম—এই মা-ছেলের ঝগড়ার আসল কারণ কি সত্যিই আমার ছেলের আচরণ ছিল? আরও গভীরে নিজের মনের দিকে তাকিয়ে আমি বুঝতে পারলাম, আসল কারণ ছিল—“সবকিছু আমার ইচ্ছামতো হোক”, এই আমার নিজের মনের আঁকড়ে ধরা ভাব বা আসক্তি। আমি চাইছিলাম, ছেলে যেন সেই মুহূর্তেই আমার কাজে সাহায্য করে এবং আমার কথা অনুযায়ী কাজ করে। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়াতেই আমার মধ্যে বিরক্তি ও রাগের জন্ম হয়েছিল।
এই উপলব্ধির পর আমার আরও একটি ঘটনা মনে পড়ল। এর কিছুদিন আগে আমার ছেলে তার প্রিয় একটি প্যান্ট ঠিক করে দিতে আমাকে বলেছিল। কিন্তু আমি সেই অনুরোধের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। কয়েক দিন পর সে এসে জিজ্ঞেস করেছিল, “মা, আমার প্যান্টটা কি ঠিক করে দিয়েছ?” তখন আমি বলেছিলাম, “আহা, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম। আমি দুঃখিত।”
এই ঘটনাটি মনে করে আমি নিজের আচরণের দিকে আরও গভীরভাবে তাকালাম। আমি তো চাইছিলাম, আমার ছেলে যেন আমাকে অবহেলা না করে। অথচ ছেলে যখন আমার কাছে একটি কাজের অনুরোধ করেছিল, তখন আমিই সেটি পরে করার জন্য ফেলে রেখেছিলাম। তাহলে, যে আচরণের জন্য আমি ছেলের ওপর রাগ করছিলাম, সেই একই ধরনের আচরণ কি আমি নিজেও করিনি? এই উপলব্ধির মাধ্যমে বুঝতে পারলাম—ছেলের আচরণ যেন আমার নিজের আচরণেরই প্রতিচ্ছবি ছিল।
আরও একটি বিষয় আমাকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করল। আমার ছেলে প্রতিদিন বাড়ির নানা কাজে আমাকে সাহায্য করত এবং আমাকে সহযোগিতা করত। কিন্তু আমি ধীরে ধীরে সেই সাহায্যকে স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত বিষয় হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার অনুভূতিও যথেষ্ট ছিল না।
এই উপলব্ধির পর আমি নিজের আচরণ পরিবর্তন করার চেষ্টা শুরু করলাম। পরের বার কোনো কাজে ছেলের সাহায্য দরকার হলে আমি আর বলতাম না, “এখনই এটা করে দাও।” বরং বলতাম, “আমি তোমার একটু সাহায্য চাই। তোমার কোন সময়টা সুবিধাজনক হবে?” তখন আশ্চর্যজনকভাবে ছেলেও আর বিরক্ত না হয়ে সহযোগিতা করতে শুরু করল। আমিও আর সেই ছোট্ট ঘটনাকে মনে নিয়ে সারাদিন অস্বস্তি বা বিরক্তি বয়ে বেড়াতাম না।
এই অভিজ্ঞতা আমাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়েছে। আমরা যখন কোনো কষ্টদায়ক বা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে, তার কারণ বাইরের মানুষ বা পরিস্থিতির মধ্যে খুঁজে, প্রথমে নিজের মনের দিকে তাকাতে হয়। আমার ছেলের সঙ্গে এই ছোট্ট ঘটনার মধ্য দিয়ে আমি শরীরে-মনেই উপলব্ধি করতে পেরেছি—দুঃখের মূল কারণ, অর্থাৎ ‘দুঃখ সমুদয় সত্য’-এর অনুশীলন মানে নিজের দুঃখের মূল কারণ হিসেবে নিজের ‘আসক্তি’-কে চিনে নেওয়া।
বুদ্ধের আশীর্বাদে, এখন আমাদের বাড়িতে আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রশান্তি বিরাজ করছে। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমি আরও একবার উপলব্ধি করেছি—অন্যকে পরিবর্তন করার আগে নিজের মনকে সুশৃঙ্খল ও শান্ত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এভাবেই, আমার সামনে যে ঘটনাই ঘটুক না কেন, সেটিকে শুধু “সমস্যা” বা “বিরক্তিকর ঘটনা” হিসেবে না দেখে, বুদ্ধের কাছ থেকে পাওয়া নিজের মনকে পরিশুদ্ধ করার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। প্রতিটি সম্পর্ক, প্রতিটি ঘটনা এবং প্রতিটি মুহূর্তকে সাধনার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে, নিজের অন্তরের বুদ্ধ-প্রকৃতি আরও বিকশিত করার জন্য প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে সাধনা করে যেতে চাই।